নির্বাচন কমিশনে(ইসি) চলছে কর্মকর্তাদের শোকজ ও হুশিয়ারির প্রতিযোগিতা। কর্মকর্তাদের শোকজ ও হুশিয়ার করছেন খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারগন।
ইসির সংশিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের কোন সিদ্ধান্তের বিষয়সহকোন সংবাদ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তলব করা হচ্ছে সিইসিসহ কমিশনারদের রুমে।
কর্মকর্তাদের শোকজ করাসহ চাকুরী চলে যাবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।আর এ পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাচ্ছেননা ইসির কোন কর্মকর্তা। আর এ অবস্থায় চাকুরী থাকবে কী থাকবেনা তা নিয়ে টেনশনে পড়েছেন নির্বাচন কমিশনে(ইসি)কর্তারা।
এদিকে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই সংবাদকর্মীদের ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার(সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ।
এমনকি সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনেরসময়ে ফোন করেও পাওয়া যায়নি সিইসির কোনো মন্তব্য।
অন্যদিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ফেলে বেশিরভাগ সময় বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। আর এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট করায় সাংবাদিকদের উপর ক্ষুদ্ধ তিনি।
আর এ কারনে গত বৃহস্পতিবার থেকে(সোমবার) পর্যন্ত একটানা বৈঠক করেছেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারগন।বৈঠকেইসির কর্মকর্তাদেরকে সংবাদ মাধ্যমেতথ্য না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া এনির্দেশ অমান্য করে যে সব কর্মকর্তা সাংবাদিকদের তথ্য দিবে তাদের চাকুরী হারাতে হবে বলে হুশিয়ারি করা হয় ঐ বৈঠকে।
সূত্র আরো জানায়, নির্বাচন কমিশনে এমন কোনো কর্মকর্তা নেই, যে বর্তমান কমিশনের শোকজ পাননি। কোনো কোনো কর্মকর্তা শোকজে অতিষ্ঠ হয়ে জেলা-উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় বদলি হয়ে চলে গেছেন।
আবার অনেকে পদোন্নতি পেয়ে ইসিতে এসে চরম বিপদে পড়েছেন। আবার অনেক কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনারদের ভয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাও ছেড়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দেখলে এড়িয়ে চলছেন ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সিইসিসহ ৪ কমিশনারগন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের একরকম আতঙ্কের মধ্যে রেখেছেন।
তারা আরও বলেন, প্রতিনিই চাকরি হারানোর ভয়সহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বর্তমান কমিশনের কাছে কর্মকর্তারা জিম্মি বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপসচিব বলেন, সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশ হলে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয় ইসির কর্মকর্তাদের।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেও এখন ভয় হয়।কারণে-অকারণে ডেকে নিয়ে শাসানো হয়। যে কোনো বিষয়ে কথায় কথায় কর্মকর্তাদের শোকজ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের(সিইসি)কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করতে অসম্মতি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার(সিইসি)কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, আমরা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। কমিশনে যে কাজ করব, তা গণমাধ্যমকে জানিয়েই করা হবে।
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান দৃষ্টি থাকবে। সবার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সুন্দর, অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ দশম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
তার এ বক্তব্য আজ শুধুই অতীত।কথা রাখেনি সিইসি।
ঢাকা, ১৫ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর//এনএস





