চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে কর্মরত সাংবাদিকদের উপর হামলা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকের গাড়িতে আগুন দেয়ার চেষ্টার দায়ে “ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজ”নামে কথিত একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের নেতাকাসীদের নামে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার রাতে সিএমপির কোতোয়ালী থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

লাঠিসোটা নিয়ে প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় উঠে হামলা এবং প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার ও বিএফইজে’র (একাংশ) যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলা নিউজের ব্যুরো প্রধান তপন চক্রবর্তীর ওপর আক্রমনের চেষ্টার অভিযোগে প্রথম মামলাটি দায়ের করেছেন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। তিনি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলার সময় আটক ৪ হিন্দু যুবকসহ মামলায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামী করা হয়।

অপর দিকে কর্মরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলা এব সাংবাদিকদের হুমকি ধমকি। একুশে টেলিভিশনের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন বাংলা নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার রমেন দাসগুপ্ত। এতে আটক ৪ জনসহ ২৫/৩০ জন অজ্ঞাত যুবককে আসামী করা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক ৪ জনকে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে এ ৪ যুবক হামলার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর জামালখানস্থ প্রেসক্লাবের সামনে পুরো সড়ক দখল করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজ নামে তথাকথিত একটি সংগঠন।

এসময় যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটায় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এবং দায়িত্বরত সংবাদ কর্মীরা তাদের এক পাশে সরে কর্মসূচি পালন এবং আটকা পড়া যানবাহন ছেড়ে দিতে বলে। এতে সাংবাদিকদের সাথে মারমুখি আচরণ করেন হিন্দু যুবকরা। তারা সেখানে থাকা একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক ও সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক কমল দাসকে নাজেহাল করলে অন্যান্য সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করেন। এতে হিন্দু যুবকরা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়।

মাসুম/এআই