সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন’ এর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পে-স্কেল সংক্রান্ত পে-কমিশনের সুপারিশ ও সচিব কমিটির প্রতিবেন দু’টোই এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন। আগামী মাসেই এটা চূড়ান্ত করা হবে। তবে যখনই এটা চূড়ান্ত করা হোক না কেন, ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগের বার পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে ৫ জন মন্ত্রীকে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবার এমন কিছু করা হবে কি না জানি না।’

মুহিত বলেন, ‘পে-স্কেলে অনেক জটিলতা থাকে। সেগুলোর সুরাহা করা অনেক কঠিন। আমার কাছে যখন কোনো কেইস আসে তখন সেটা বোঝা যায়।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে ‘স্থায়ী পে-কমিশন’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মুহিত বলেন, ‘আমি চাই পাঁচ বছর পর পর পে-স্কেল ঘোষণা-এটা এবারই শেষ হোক। একটা স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আপডেট হবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ‘পে-কমিশনের সুপারিশে ২০টির পরিবর্তে ১৬টি গ্রেড রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু যেটা একবার চালু হয়ে গেছে, আমি মনে করি সেটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার সংখ্যা কমিয়ে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারি নাই। ভাতা এখন অধিকারের মতো হয়ে গেছে।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০টি ভাতা পান’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মতে, ভাতা চারটির (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও আপ্যায়ন) বেশি থাকা উচিত নয়।’

স্বতন্ত্র পে-স্কেল চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন’ এর নেতারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণা ও বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশগমণ বৃত্তির দাবি জানান তারা।

দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দাবিগুলোর সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি জড়িত। সুতরাং এগুলো বাস্তবায়িত না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ সব বিষয়ে আমি এখন কোনো মন্তব্য করব না। বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘তবে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল গঠনের বিষয়টি ২০০৮ সালের নির্বাচনে অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নাই। গত নির্বাচনে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।’

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ