‘তোদের কেটে মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ রয়েছে’ এমন কথা বলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বকুল ও সানাউল। এমনটাই অভিযোগ করেছেন আহত সাংবাদিক প্রথম আলোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন দিলু ও দৈনিক খোলা কাগজের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রব নাহিদ।

 

এ সময় আরো আহত হয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সহসভাপতি আলী উজ্জামান নূর ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতা বঙ্গপাল সর্দার। আনোয়ার হোসেন দিলুকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদেরও দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের দুটি ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

শুক্রবার দুপুরে নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের মানিকাড়া গ্রামে একটি ঘটনার অনুসন্ধান করতে গেলে তাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ধান খেত থেকে ভাঙ্গা মুঠোফোন ও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে এখনো মামলা দিতে পারেননি। আপাতত সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা আহমেদ শাহরিয়ার হাসান জানান, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের নাকে, মুখে, কপালে, মাথায় ও পিঠে জখম হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত। অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন দিলু জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সূত্রে জানা যায় মানিকাড়া গ্রামে তরিকুল ইসলামের খনন করা পুকুরে উঁচু করে পাড় দেওয়ায় প্রায় ১৫ বিঘা আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বেলা ১১টার দিকে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। ফেরার সময় ওই গ্রামেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার শুরুতে বকুল ও সানাউল বলেন, তোদের কেটে মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ রয়েছে। এরপরই তারা চড়াও হন। কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন। এসময় তারা ইট দিয়েও আঘাত করেন। একপর্যায়ে তারা আব্দুর রবকে রাস্তার পাশে একটি ডোবার পানিতে উপর্যুপরি চুবিয়ে আহত করে। তারা আমাদের দুটি ক্যামেরা ও দুটি মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

হামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন তরিকুল ইসলামের সহযোগী নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের মানিকাড়া গ্রামের ইকবাল, লক্ষীপুর গ্রামের কিবরিয়া, সদর উপজেলার টংপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক ওরফে হাবু, রাব্বানি, তরিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক পরিচয় দেওয়া বকুল ও সানাউল।