হিলি উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ও দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য প্রতিনিয়তই বাড়ছে। অথচ যানবাহন রাখার জায়গার অভাবে ও যানজটে আমদানি-রফতানিসহ বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে।

বন্দর পরিচালনাকারী পানামা পোর্টের ভেতরে ভারতীয় ও বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক রাখার পর্যাপ্ত জায়গার অভাব প্রচণ্ড। এছাড়া জিরোপয়েন্ট থেকে বন্দরের প্রবেশ গেট পর্যন্ত অপ্রশস্ত রাস্তায় দ্বিমুখী যান চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, স্থলবন্দরের কার্যক্ষমতার বেশি পণ্য আমদানি-রফতানি হওয়ায় স্থান স্বল্পতার কারণে অনেক সময় অপ্রশস্ত প্রধান রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। এ যানজটের কারণে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি কম হওয়ায় কাক্সিক্ষত রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড়ের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, বন্দরের ভেতরে জায়গা স্বল্পতার কারণে প্রায়ই রাস্তার পাশে ভারতীয় ও বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর ফলে সৃষ্ট যানজটে শিক্ষার্থী, রোগীসহ সব ধরনের যাত্রীকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি ও রফতানিকারক গ্রুপের আহবায়ক হারুন-উর-রশিদ হারুন বলেন, ‘গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার এ বন্দরের পণ্য আমদানি খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আহরণের পরিমাণও ভালো। অথচ হিলি স্থলবন্দরের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানের রাজস্ব আয় থেকেও বন্দরের আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম আমিনা বলেন, ‘রাস্তাঘাটসহ বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে বন্দরের আমদানি-রফতানিতে গতিশীলতা আরো বাড়বে।’

বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাশেম আজাদ জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এ যানজট নিরসনে ট্রাফিকিং ব্যবস্থা আরো সুদৃঢ় করা, বিকল্প রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তাঘাট প্রশস্ত করতে হবে।

বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর পানামা হিলিপোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এসএম হায়দার আলী (গুডলাক) বলেন, ‘পোর্টের অপারেশন ওয়ার্ক যথাযথ থাকলেও অপ্রশস্ত রাস্তা ও একমুখী পথ না থাকাই বন্দর এবং এর বাইরে তীব্র যানজটের কারণ। পোর্ট অভ্যন্তরে আরো ১২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের আরো কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বহুগুণ বেড়ে যাবে।’

হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার শাকিল খন্দকার বলেন, ‘বন্দরের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে স্থলবন্দরের রাস্তাঘাট প্রশস্ত করাসহ পোর্ট অভ্যন্তরে জায়গা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো নির্মাণ করা আবশ্যক। এতে করে বন্দর দিয়ে যেমন আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, তেমনি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়বে।’

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই