পথের মধ্যেই বারবার চিল্লায়ে উঠতেছিল, `এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।`. মৃত্যুশয্যায় বারবার একটি কথাই বলেছিলেন ছেলেটি। তবে এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে যশোরের ভ্যানচালক কিশোর শাহীন মোড়ল (১৬)। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শাহীনের আশঙ্কাজনক অবস্থা কেটে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার গত সোমবার বলেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে শাহীনকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
এখন আর মুখে অক্সিজেন নেই। মাথার ব্যান্ডেজও খুলে ফেলা হয়েছে। তবে মাথার বড় ক্ষতটি এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। ডাক্তার বলেছেন কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতটি সেরে যাবে। বুধবার রাতে কথা হচ্ছিল শাহীনের মা খাদিজা খাতুনের সাথে।
প্রধানমন্ত্রী তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার পর সিট দেয়া হয় ঢাকা মেডিকেলের ১০নং ভিআইপি ওয়ার্ডে। গেল সাত দিন আগে সেখান থেকে তাদেরকে সেখান থেকে কোনো এক ভিআইপি আসবে এমন খবরে এখন তারা আছেন ২৪ নং কেবিনে। শাহীন এখনো আইসিইউ এর ১৯ নং বেডে ভর্তি।
শাহীনের মা খাদিজা খাতুন ও খালা জায়েদা কমলা, ডালিম, আম কাটছেন শাহীনের জন্য। তাকে এখন নিয়মিত খাবার দেয়া হচ্ছে। কথাও বলছেন সবার সাথে। কোনো বিষয় অপছন্দ হলে রাগও করছে।
শাহীনের সাথে দেখা হলে তার সাথেও কথা হয়। কেমন আছে জানতে চাইলে সে জানায়, ভালো আছে। দোয়া করবেন আমার জন্য।
এটুকুই বললো শাহীন। বেশি কথা বলা ডাক্তারের বারণ। দেখা যায়, খালা জায়েদার কাছে সে খাবার, পানি চেয়ে নিচ্ছে।
জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শাহীনের অবস্থা এখন বেশ ভালো। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউ থেকে বেডে পাঠানো হবে। অল্প কলেক দিনের মধ্যে সে সেরে উঠবে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া কৃঞ্চনগর গ্রামের আমজামতলায় যাত্রীবেশে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা শাহীনকে (১৪) কুপিয়ে তার ইঞ্জিন চালিক ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শাহীনের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে।
গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। আর্থিক অনটনের সংসারে নিজের ও ছোট দুই বোনের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে ভ্যান চালাত সে।
এএস





