নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহাজাহান সরকার সাজু ও ছাত্রলীগ নেতা আমির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা আমির গ্রুপের সন্ত্রাসী আলাউদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোদনাইলের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহজাহান সরকার সাজু গ্রুপের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা আমির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র সহকারে আমির গ্রুপের আলাউদ্দিনসহ অন্যরা শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহজাহান সরকার সাজুর আস্তানায় হানা দেয়।

এসময় সাজু না থাকলেও সাজুর সহযোগীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আলাউদ্দিন ও তার লোকজন। এসময় তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সাজু ও তার পক্ষের লোকজন আলাউদ্দিন গ্রুপকে ধাওয়া দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময়ে আলাউদ্দিনকে ধাওয়া করে গোদনাইলের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে আটক করে পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ধারালো চাপাতি, ছুরি, হাতুড়ি, হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে। পালাানোর সময় আলাউদ্দিনকে ধাওয়া করে গোদনাইলের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারী একটি চাঁদাবাজি মামলায় গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি রেললাইন এলাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাজাহান সরকার সাজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গোদনাইলের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রন নিয়ে সাজু ও ছাত্রলীগ নেতা আমির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগরে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ সন্ত্রাসী শাহজাহান সরকার সাজুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১ এর একটি দল। ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিয়ে টুন্ডা সেলিম ও শাহজাহান সরকার সাজু গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

এমবি