বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরে স্তরে ঢুকে পড়েছে দুর্নীতি। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দুর্নীতিবাজদের কাছে দুদক অসহায়।

ধীরে ধীরে দুর্নীতির বিষ বৃক্ষ গোটা জাতিকে গ্রাস করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে দুর্নীতিবাজরা প্রচন্ড দাপটের সঙ্গে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন। তারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে বিলম্বে হলে, আগামীকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার অর্ধশতাধিক ব্যাক্তিকে দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টায় দুদকের সম্মেলন কক্ষে 'রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক সংস্কার, দুয়ে মিলে হতে পারে দুর্নীতির প্রতিকার শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আর এ সেমিনারের উদ্দেশ্য দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন করা।

দুদকের আমন্ত্রিত আলোচকদের মধ্যে রয়েছেন- দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, টিআইবি'র চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী ব্যবসায়ি আনিসুল হক, সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সাবেক সচিব ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির, তথ্য কমিশনের কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার, ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলাম, ড. শাহদীন মালিক, মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশিদ, ড. মিজানুর রহমান শেলী, পিএসসি'র সদস্য আবুল কাশেম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শহীদুজ্জামান

নিউজ টুডে'র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক আবেদ খান, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর, একাত্তর টিভি'র মোজাম্মেল বাবু, প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান, ও সোহরাব হাসান

অর্থনীতি সমিতির নেতা অধ্যাপক আবুল বারাকাত, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, অধ্যাপক এমএম আকাশ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সেলিম ওমরা খান, আবদুল মান্নান এবং এ এইচ এম মোয়াজ্জেম প্রমুখ অতিথি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কেন দুদক এবার সেমিনারের আয়োজন করছে। এর জবাব- 'রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া কখনো দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এদেশে বড় বড় অনিয়ম, জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং লোপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন- প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সাবেক-বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, নেতা, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী, ব্যাংকার এবং ব্যবসায়িরা।

কারণ রাজনৈতিক নেতা, এমপি, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাধর আমলাদের কাছে দুদক অসহায়। যার ফলে দুদক ক্ষমতাসিনদের কথামতো কাজ করতে বাধ্য।

দুদককের গত ১০ বছরের রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দুদক প্রায়ই 'রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাধর ব্যাক্তি ও আমলাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে চাপের মুখে চিহ্নিত ও আলোচিত ব্যাক্তিদেরকে দায়মুক্তি দিয়ে তাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিযোগ থেকে দায়মুক্ত এবং অভিযোগ নথিভুক্তদের নামের তালিকা পর্যালোচনা করলেই দুদকের ক্ষমতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পুরো চিত্র ফুটে উঠে।
দুদক নিজস্ব আইনে পরিচালিত হলেও সম্পূর্ণভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

যারফলে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশনা অনুযায়ীই দুদকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, আর এ বিষয়টি আজ দিবালোকের মতো দেশবাসীর কাছেও পরিস্কার। দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারসহ কর্মকর্তার প্রতিবছর শপথ গ্রহণ করেন, নিজেরা দুর্নীতি করবেন না, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে আপোষ করবেন না, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। কারো দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

কিন্তু এ শপথ নেয়ার সঙ্গে শপথ ভঙ্গ করতে থাকেন। কারণ দুদক পরাধীন, সরকারের নির্দেশের বাইরে কিছু করলে উল্টা বিপদে পড়তে হবে। এ আশঙ্কায় থাকেন দুদকের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা এমন কথাও শোনা যায়।

একে