ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাদেক খানের স্মরণে সাদেক খান নাগরিক স্মরণ সভা আয়োজন কমিটির উদ্যোগে ৩রা জুন শুক্রবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে কর্মময় এবং দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক, সাবেক সচিব এম. মুনির-উজ-জামান। স্মরণ সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ভাষাসৈনিক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তার ছোট ভাই বাদল খান। অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন মাহমুদ শাহ কোরেশী, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, রিটা রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, চিত্র পরিচালক মোঃ হাফিজ উদ্দিন, আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য দেলোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ প্রমুখ।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইঞ্জি. আ.খ.ম আক্তার হোসেন। এছাড়াও মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক হুইপ রেড ক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল হক জামাল, আবুল কাশেম চৌধুরী, মিসেস রুনি খান, কালাম ফয়েজী, শাহীন, শাহবুর রহমানসহ বন্ধু মহলের ব্যক্তিবর্গ।

স্মরণ সভায় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি এম. মুনির-উজ-জামান। লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাদেক খানের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটা ভাবতেই কেমন লাগে। হঠাৎ করে তিনি চলে যাবেন এমনটা ভাবতেই পারিনি। তিনি লড়াকু মানুষ, যাবার বেলাতেও লড়ে যাবেন এমনটি ভেবেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়ি তখন তিনি উদীয়মান সাংবাদিক, কলাম লেখক। তাঁর প্রবন্ধ পড়ে অবাক হতাম। তাঁর বক্তব্যের বিষয় বৈচিত্র্য দেখে। বিশেষ করে অবাক হতাম শিল্প সমালোচক হিসেবে তাঁর লেখাগুলি পড়ে। চিত্র শিল্পের তাত্ত্বিক বিষয়গুলির উপর তাঁর দখল দেখে।

তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় আসলাম অনেকদিন পরে যখন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সংগ্রাম তুঙ্গ্ েতিনি নিজ থেকে এ সংগ্রামের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন অনেকে। মাঝে মাঝে এসে তিনি দেখা করতেন, গ্রামীণ ব্যাংকের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি ভালো করে বুঝে নিতে। এই সংগ্রামের সময দেখলাম এই বয়সেও তিনি কত দৃঢ়চেতা ও নিবেদিত প্রাণ। তাঁর সঙ্গে আমার কোন ঘনিষ্ঠতা ছিল না। আমি কোন দিন তাঁর সাহায্য চাইনি। তিনি যে আমার ব্যাপারে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে উৎসাহী হবেন তাও আমি জানতাম না। গ্রামীণ ব্যাংকের ইস্যু তিনি নিজেই তুলে নিয়েছেন, নিজেই লড়ে গেছেন।

তাঁর চলে যাবার পর হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগছে এরকম মানুষ কি সমাজে এখন আর তৈরী হচ্ছে? নাকি তাঁরা ক্রমে ক্রমে সাদেক খানের মতো শুধু বিদায় নিয়েই যাচ্ছে, আর তৈরী হচ্ছে না। আরো বহু সাদেক খান আমাদের সমাজে ক্রমাগতভাবে আসতে থাকুক এ কামনা করে ভারাক্রান্তমনে আজ সাদেক খানকে বিদায় জানাচ্ছি। সাদেক খান, তুমি পরকালে শান্তিতে থেকো।

স্মরণ সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন সাদেক খান। মহান ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দেশবরেণ্য লেখক, অভিনেতা, প্রযোজকসহ নানা গুণে গুণান্বিত এই মানুষটি সবসময় নিরাহংকার ছিলেন। বাবা মরহুম আব্দুল জব্বার খান পাকিস্তানের স্পীকার ছিলেন, ছোট ভাই ওয়ায়দুল্লাহ খান ও এনায়েতউল্লাহ খান দু’জনই মন্ত্রী ছিলেন।

তাদের ইন্তেকালের পর ছোট বোন সেলিমা রহমান মন্ত্রী ছিলেন, বর্তমানে তার ভাই রাশেদ খান মেনন মন্ত্রী রয়েছেন। অথচ কখনো তাদের পরিচয় নিজেকে কোথাও তুলে ধরতেন না। এদেশের নানা সংকটে তার লেখনী ও টক শোতে তার বক্তব্য গণতন্ত্র রক্ষায একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছে। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।

গত১৬ মে ২০১৬ ইং তারিখে নিজ বাসভবনে বেলা ১১টার সময় ৮৫ বছর বয়সে এই মহান ব্যক্তি সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

এমবি