নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকালে ভারতের সাথে মোট ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশে।
আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে ভারত সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।
তিনি জানান, ১১টি চুক্তি ও ২৪টি সমঝোতা; লুকোচুরির কিছুই নেই। দু’দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৯ বিলিয়ন (নয়শ' কোটি) ডলারের ১৩টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকও এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
শেখ হাসিন জানান, ভারতে সফরে যাওয়ার পর তাকে সংবর্ধনা জানাতে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনে তিনি অবাক হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমি অবাক হয়ে গেলাম। উনি আসবেন আমি ভাবিনি। ভারতের মতো এত বড় রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে এসে সংবর্ধনা জানিয়েছেন, এটা বাংলাদেশের সম্মান।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সফরকালে হায়দরাবাদ হাউসের বলরুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে সমর্থন জানান এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে জানান।
ভারতের সঙ্গে সই হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সমলোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, 'সামরিক খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নমনীয় ঋণ দেবে ভারত।'
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র হিন্দি সংস্করণের মোড়কও উন্মোচন করেছি এ সফরে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আমাদের দুই সরকারের আমলেই সম্ভব হবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এ সফর সফল দাবি করে তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং বর্তমানে তা এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশ্বস্ততা ও বন্ধুত্বের বহুমুখী সম্পর্ক এই সফরের মাধ্যমে আরও সুসংহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ৪দিনের সরকারি সফরে ভারত যান। সফর শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফিরেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন এবং শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থান করেন, সাক্ষাৎ হয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী, বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নয়াদিল্লিতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।
এমবি





