গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের পল্লীতে রেজিয়া বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধু ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে চম্পট দিয়েছে।

এ ঘটনায় দরিদ্র স্বামী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া দিশেহারা হয়ে পরেছেন। সেই সাথে এলাকাবাসীর মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সরজমিনে এলাকাবাসী জানায়, সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দপুর গ্রামের মৃত সাহেব আলীর স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে রেজিয়া বেগমকে বিগত ৩ বছর পূর্বে ২য় বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসুলপুর গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের হতদরিদ্র ছেলে আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।

বিয়ের পর কিছুদিন উভয়ের মধ্যে সংসার জীবন ভালই চলে আসছিল। এর পরেই অর্থলোভী নারী রেজিয়া বেগম নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষে বিভিন্ন ফন্দি আটে।

এদিকে দিন মজুর স্বামী কুদ্দুস মিয়া জীবিকার তাগিদে এলাকার বাহিরে কাজকর্ম করতে গেলে, সুচতুর স্ত্রী রেজিয়া বেগম সংসারের গরু-বাছুর ও মালামাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। তার এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাধা দিতে গেলে, রেজিয়া বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী কুদ্দুস মিয়াকে শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে।

এমনকি ইতিপূর্বে স্ত্রীর ঘুসিতে স্বামীর বাম চোখে যখম করে দেয় এবং রেজিয়া বেগম দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। স্ত্রীর এসব ঘটনায় স্থানীয় ইউপি মেম্বর নুরুন্নবী প্রধানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিস বৈঠক করেও রেজিয়াকে দমাতে পারেনি কেউই।

এরই ধারাবাহীকতার একপর্যায়ে সোমবার দিবাগত রাতের তাড়াবির নামাজের সময় কুদ্দুস মিয়া বাড়িতে না থাকার সুবাদে স্ত্রী রেজিয়া বেগম কাপড়-চোপড়, আসবাপত্র ও নগদ ২১ হাজার টাকাসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দেন।

স্বামী কুদ্দুস মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর অত্যচারে ও উল্লেখিত মালামাল নিয়ে উধাও হওয়ার ফলে বর্তমানে আমি নিঃশ্ব হয়ে পথে বসেছি।

রেজিয়া বেগমের সৎ ছেলে শফিকুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ওই সৎ মায়ের অত্যচারে আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে।

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা জানান, ঘটনাটি আমি লোক মুখে শুনেছি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএইচ