সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের পানিতে তেজস্ক্রিয় বিষ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধম্যেও সাধারণ মানুষকে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই এ নিয়ে ফেসবুকে তাদের নিজ্বস্ব মতামত তুলে ধরেছেন। সিনিয়র আইনজীবী ও বিশ্লেষক ড. তুহিন মালিকের ফেইসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটিকে ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার স্ট্যাটাসের কমেন্টস বক্সে অনেকে তাদের নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন। একজন মন্তব্য করেছেন এই পানি পরীক্ষা করে ইউরিনিয়াম বা কোন বিষাক্ত কিছু পেলে আন্তর্জাতিক আদালতে আমাদের মামলা করা উচিত।

ড. তুহিন মালিকে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয় বিষ আসলো কোত্থেকে?
ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ঝাঁকে-ঝাঁকে মারা যাচ্ছে মাছ, পাখি, জলজপ্রানী, হাঁস। পঁচা ধান, মরা মাছ, হাঁসের পঁচা দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত পুরো হাওরের জনপদ। ধান ও মাছ পঁচার দুর্গন্ধ ও দুষিত পানিতে মানবদেহে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক উপসর্গ।

বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রয়েছে ওপেনপিট ইউরেনিয়াম খনি। বিশেষজ্ঞরা বলছে সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ‘রামসার সাইট’-খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের এই বিপর্যয়ের জন্য ভারতের ইউরেনিয়ামের বিষক্রিয়াই দায়ী।

এশিয়ার দুটি বৃহৎ জলাশয় হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরের জলজপ্রাণীর মৃত্যুর জন্য ভারতের ইউরেনিয়াম খনিই যে দায়ী সেটা গত ডিসেম্বরে মেঘালয়ের স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠী সেই এলাকার রানিকর নদীর পানির রঙ নীল থেকে বদলে সবুজ হয়ে যেতে দেখে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছিল।
কিন্তু আমাদের সরকার হাওরের এই মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে ততটাই নির্লিপ্ত থেকেছে, যেমনটা এই বিপর্যয়ের পরও নির্লিপ্ত আছে!!

বলা হচ্ছে— উজানের ঢলের পানি ও আগাম বন্যা নাকি এর জন্য দায়ী। তাহলে বন্যার পানি ও উজানের ঢলে প্রানী মরবে কেন? বন্যার পানিতে বিষ আসবে কোত্থেকে?

আরো বলা হচ্ছে- ভারতের কৃষিজমিতে ইউরিয়া সারের কারনে নাকি কাঁচা ধান পচে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়েছে! যদি তাই হয়, তাহলে সেই বিষাক্ত পানি ভারতের মাছ, পাখি ও জলজপ্রানীর কোন ক্ষতি না করে বাংলাদেশের হাওরের সর্বনাশ করলো কি করে?

তার মানে নিশ্চয়ই কেউ ইচ্ছা করেই সেই বিষাক্ত পানির ঢল বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেবার জন্য আমাদের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে! আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের এ বিষয়ে একটি উদ্বৃতি আজকে প্রথম আলোতে এসেছে। প্রথম আলোকে হানিফ বলেন, "বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির কথা এসেছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে। অনিয়মে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

এটাতো প্রমানিত যে, ভারতের ইউরেনিয়াম খনির তেজস্ক্রিয়তা মিশ্রিত পানির ঢল রক্ষার্থে আমাদের দেয়া বাঁধটি কেউ না কেউ ভেঙে দিয়েছে।
এটাও পরিস্কার যে, ভারতের ইউরেনিয়াম খনির তেজস্ক্রিয়তা মিশ্রিত পানির বিষক্রিয়াই হাওরের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

এমনটাই ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনের প্রধান আজকে গণমাধ্যমকে বলেছেন যে, "ইউরেনিয়ামের কারণেই পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর কারণেই পানির নিচের মাছ-ব্যাঙ মারা যাচ্ছে। সাধারণত ধান পঁচে যে আমোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হয় তাতে এতো মাছ মারা যাওয়ার কথা নয়।"

এ স্ট্যাটাসটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে। মন্তব্য গুলো থেকে কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরা হলো।

মোহাম্মদ শরিফ আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, আমি মনে করি,এই পানি পরীক্ষা করে ইউরিয়াম বা কোন বিষাক্ত কিছু পেলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত।

এমডি রুবেল লিখেছেন, সরকারের উচিৎ পদক্ষেপ নেওয়া অন্যথায় জনগন ব্যবস্থা নিবে নির্বাচনের সময়।
রাহাতুল নামে একজন লিখেছেন, দূর্বল সরকার প্রতিবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও নিরব। দাদার কাছে চাওয়াটা এখন হিতে বিপরিত। দেশের জনগনের চেয়ে ক্ষমতা টিকে রাখাটা বড় বিষয়।কিন্তু উনিও বুঝতে চেষ্টা করছেনা যে,বাংলাদেশের জনগন ছাড়া উনি একজন ভারতিয় সাধারণ নাগরিক মাত্র। কারণ দিল্লীকা লাড্ডু খায়গা তো পস্তপায়গা, নিই খায়গা তো পস্তপয়াগা।বুবুজান ও খুশি "পানি মাঙ্গা সাথমে ইউরিনিয়ামও মিলগিয়া"

সুন্নু নামের একজন লিখেছেন, পাকিস্তান আমল দেখিনি,মনে হয় এখনকার চেয়ে ভালো ছিল, কারন তখন প্রতিবাদ করা গিয়েছিল বিধায় দেশ স্বাধীন হয়েছে, ভারত আমাদের এতো অত্যাচার করছে, কিন্তু আমরা আমাদের সরকারের জন্য প্রতিবাদ ও করতে পারছিনা, এই দেশ, কি সত্যি ভারতের অধীন হয়ে গেছে'? না হলে সরকার কেন নতজানু করছে ভারতকে?

অন্যদিকে, আজ এক সেমিনারে সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী সুনামগঞ্জে হাওরের পানি ইউরেনিয়ামের কারণে দুষিত কি-না তা পরীক্ষা করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জাতিকে জানানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক বিজ্ঞানী আছেন, তারা সহজেই এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন। সুনামগঞ্জের পানি ইউরেনিয়ামে ভরে গেছে কি-না করতে তা খুঁজে বের করতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি বলেন, পানি যে বিষাক্ত তার প্রমাণ হাঁস মরে যাচ্ছে, কিন্তু মুরগি মরছে না। পানিতে চলাফেরা করা এবং মাছ খাওয়ার কারণেই হাঁস মারা পড়ছে।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ”রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্যের উপর প্রভাব” শীর্ষক গোল-টেবিল আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

জারিফ