মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

এতে রামগতি উপজেলা সদর আলেকজান্ডারের সঙ্গে নোয়াখালী ও রামগতির সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ।

দ্রুত ভাঙন রোধ করতে না পারলে সড়কের বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে এ রুটে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়বে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি পৌরসভার মেয়র শাহেদ আলী পটু জানান, ভাঙনের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ওই সড়কে বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল কমে গেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়কের রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার বিশাল অংশ ভাঙন হুমকিতে ছিল। কয়েক দিনের মেঘনা নদীর জোয়ার ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ওই সড়কে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে রাস্তার বেশকিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়। এতে ধীরে ধীরে যানবহন চলাচল কমে যায় এ সড়কে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে শিগগিরই সড়কটি বিছিন্ন হয়ে যাবে।
এদিকে, ভাঙন এলাকার মাত্র দেড়শ’ গজ দূরে অবস্থিত রামগতি উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও হুমকিতে রয়েছে।

রামগতি প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হক বলেন, বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে সড়কটি ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে হচ্ছে না।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ। সড়ক ও আশপাশের এলাকা ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম খালেকউজ্জামান বলেন, আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক রক্ষায় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বর্তমানে জিও ব্যাগ দিয়ে ওই সড়ক রক্ষার কাজ চলছে।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ৩ মে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ২৯ মে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক ভাঙন কবলীত আলেকজান্ডার এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে সড়ক রক্ষায় ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ টাকায় ১শ’ মিটার সড়ক রক্ষার কাছ চলছে।

দ্রুত আরও ২শ’ মিটার রক্ষায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে আলেজজান্ডার-সোনাপুর সড়কটি রক্ষা করা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া ৬৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক সভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত এটি অনুমোদন না হলে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে মেঘনার অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙনে রামগতির বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, আশ্রয় কেন্দ্র ও জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা। এভাবে ভাঙতে থাকলে অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে উপকূলীয় উপজেলা রামগতি ও কমলনগর।

ঢাকা, ২১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই