জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের ওপর অতর্কিত গণহত্যা শুরু করে। ওই রাতেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, যেখানে একটি প্রহসনমূলক মামলার মাধ্যমে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল এবং সেই রায় কার্যকরের ক্ষণগণনা করছিলেন বঙ্গবন্ধু।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর অকুতোভয় নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল বাঙালি জাতি। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তাঁর মুক্তির মধ্যদিয়েই পরিপূর্ণ বিজয় অর্জন করে বাঙালি।
সাড়ে নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে উদযাপিত হবে। তবে এবার দিবসটি জাতির কাছে আলাদা গুরুত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চলতি বছর তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এই বছরকে ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ‘মুজিব বর্ষ’ পালন করা হবে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসেই রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ‘কাউন্টডাউন’ (ক্ষণগণনা) শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে ওই স্থানেই বিমান থেকে অবতরণ করেন।
বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী বিমান অবতরণের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখতে পাবেন দর্শকরা। ক্ষণগণনা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন।
আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন এবং সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে এরমধ্যেই পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এর মধ্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বিশ্বজুড়ে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
বাণীতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মহান নেতার অসম্পূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবাইকে দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
অন্য এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইউনেস্কো যৌথভাবে আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’ বাণীতে সবাইকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এমআর





