এবার ঈদে ঘরে ফিরতে গিয়ে মাত্র ১৩ দিনে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিত ভাবে ৩৩৫ টি দুর্ঘটনায় ৪১৪ জন নিহত ও ২ হাজার ৮৫৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌ দুর্ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২৫ জন।

বরাবরের মতো এককভাবে সব থেকে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। নিহত মানুষের সংখ্যা ৩৩৯ জন। আর আহত হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ জন।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি মানুষ বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। সড়কের অব্যবস্থাপনা রোধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

“ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮” প্রকাশ উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য তুলে ধরা হয়। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮ তুলে ধরেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

অন্যদের মধ্যে সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সেইফ রোড এন্ড ট্রান্সপোর্ট এলায়েন্সের কো-অর্ডিনেটর সদরুল হাসান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা ক্রমেই একটি বেপরোয়া ও মরিয়া জাতিতে পরিণত হয়েছি। যা কিছু হয় তা 'বন্দুকযুদ্ধ' দিয়ে সমাধান করে যাচ্ছি। আমরা আইন ঠিকভাবে মানি না। মানতে চেষ্টাও করি না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনারোধে যে সব সুপারিশ করেছেন আশা করা যায় মন্ত্রণালয়গুলো তা যথাযথভাবে পালন করবেন।

এদিকে সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদ যাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ পথে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি গত চার বছর যাবত অত্যন্ত দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার সহিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে। যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এবারের ঈদের আগে যাত্রাপথে সকল তদারকি সংস্থার সক্রিয় অবস্থানের কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তদারকি না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

গত ২৩ জুন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় সারাদেশে ১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২ জন নিহত ও ১৫০ জন আহতের খবর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে প্রচার করা হলে তা পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এহেন উদ্বেগজনক হারে প্রাণহানীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সড়ক নিরাপত্তায় দুরদৃষ্টি সম্পন্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী যে সব নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমলে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে মৃত্যুর যে গণমিছিল চলছে তা থামানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জেড