সিলেটে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রাজনের খুনি কামরুলকে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করেছেন তার বাবা।

তের বছরের বালক রাজন, যাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তার বাবা আজিজুর রহমান এক স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন জানান। সোমবার (১০ আগস্ট ২০১৫) সিলেটের মৌলভীবাজারের ডেপুটি কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজনের বাবার ওই স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

স্মারকলিপিতে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান তার ছেলে রাজনকে পিটিয়ে হত্যাকারীদের প্রধান কামরুল ইসলামকে দেশে ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

রাজনের বাবা স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত, খুনিদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদান।

উল্লেখ্য, রাজনের ওপর পাষবিক নির্যাতনকারীদের প্রধান কামরুল পুলিশসহ কয়েকজনের সহায়তার দেশ থেকে পালিয়ে যান সৌদি আরবে।

তবে, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগে ব্যাপক ঝড়তোলা ওই পাষবিক নির্যাতনের ভিডিও দেখে অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন খুনিদের ওপর। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাতে অনেকটা সিনেমাটিক কায়দায় গত ১৩ জুলাই ধরা পড়ে খুনী কামরুল।

এর আগে, গত ৮ জুলাই ২০১৫ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের কুমারগাও সড়কের কাছে রাজনের ওপর চুরির অভিযোগ এনে পাষবিক অত্যাচার চালায় খুনীরা।

খুনিদের মধ্যে মুহিত আলম ও তার চাচাতো ভাই কামরুল হোসাইন আবলুস নামে দুইজনকে এরইমধ্যে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে পড়া ২৮ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে খুনীরা ছোট্ট বালক রাজনের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। মৃত্যু পথযাত্রী ছোট্ট বালকটি একটু পানির জন্য হাহাকার করলে পাষণ্ড খুনীরা তাকে ঘাম খেতে বাধ্য করে। ঢাকা-সুনামগঞ্জ সড়কে একটি ওয়ার্কশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

কেবি/ এআর