পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কোনো সময়সীমা বেঁধে না দিয়ে বলেছেন, শিগগিরই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে শুক্রবার ‘ফিফথ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ওয়াটার এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইসিডব্লিউএফএম) -২০১৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়ার্টার এ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউএফএম) এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কথা ও সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এবং পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের আলোকে বলাই যায় শিগগিরই তিস্তার পানি চুক্তি হবে। ওই চুক্তির আলোকে বাংলাদেশ ঠিক কী পরিমাণ পানি পাবে তা নির্ধারিত হলেও এখনই বলা যাচ্ছে না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাদের পরিকল্পনা বা ভাবনার মধ্যে বাঁধ নির্মাণের বিষয় থাকলেও ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। যা কিছু করা হোক তা দুদেশের স্বার্থের দিকটা বিবেচনা করেই করা হবে বলে বিভিন্ন সময়ে তারা কথা দিয়েছে।’
কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। নদী ভাঙনও একটি বড় সমস্যা। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর বহু মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে জমিজমা হারিয়ে ঢাকায় এসে ভিড় করে।’
নদী ভাঙন, ইরিগেশনে পানির অপচয়, সব মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, লবণাক্ততা ও বন্যা সমস্যার ভয়াবহতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা টেকসই সমাধানের জন্য সরকার নানা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে।’
এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর খালেদা ইকরাম। সভাপতিত্ব করেন আইডব্লিউএফএম’র পরিচালক প্রফেসর ড. জি. এম. তারেকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান ড. আবুল ফজল মো. সালেহ।
তিন দিনের এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার ওপর ৬৬টি পেপার উপস্থাপন এবং সুপারিশ করছেন। দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ইরান, জাপান ও নেদারল্যান্ড।
তিন দিনের এই সম্মেলনে ক্যাচমেন্ট প্রোসেস, ইকোসিসটেম এ্যান্ড কুয়ালিটি অব ইনভাইরনমেন্ট, ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট, রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট, আরবান ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, এগ্রিকালচারল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট, ওয়াটার গভরনেন্স এ্যান্ড ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, ওয়াটার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইমপ্যাক্টস অন ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পেপারগুলো তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনের পিলিমিনারি সেশনে বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০ প্রকল্পের ওপর ধারণাপত্র তুলে ধরা হয়। প্রশ্ন উত্তর পর্ব এবং মুক্ত আলোচনায় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য বলেন, পানি ও বন্যার মতো জটিল সমস্যার একটি টেকসই সমাধনের পথ খুঁজে বের করার ওপর সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা মূল ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ ও পরিবেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অপরিসীম।
এএইচ





