পদ্মা সেতুর ১৪তম স্প্যান বসানো হবে আজ বৃহস্পিতবার। সকালে স্প্যানটি কুমারভোগের বিশেষায়িত ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজে করে খুঁটির কাছে নেয়া হচ্ছে। ১৪তম স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১৫ ও ১৬ নম্বর খুঁটিতে।

নদীর মাঝখানে আগের দুটি স্প্যানের সাথে বসানো হবে নতুন স্প্যানটি। ফলে দুই প্রান্ত মিলিয়ে দৃশ্যমান হবে ২ কিলোমিটারের বেশি সেতু। এটি বসাতে এক মাসের বেশি সময় লাগলেও পরের স্প্যানগুলো দ্রুতগতিতে বসানো যাবে বলে আশা প্রকল্প পরিচালকের।

শেষ ৪টি স্প্যান বসেছে খুব দ্রুত। কখনো ১০ দিন, কখনো ১৫ দিন বিরতিতে বসেছে এক একটি স্প্যান। সবশেষ ১৩ নম্বর স্প্যানটি বসানো হয় গত মাসে। তবে তারপরই একমাসেরও বেশি সময়ের লম্বা বিরতি।

সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, খুঁটি দুটি স্প্যান বহনের সম্পূর্ণ উপযোগী করা হয়েছে। ৩-সি নম্বর স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বসানোর উপযোগী করে স্প্যানটি ইয়ার্ডের জেটির কাছে রাখা হয়েছে।

সেতুর মোট ২৯৪টি পাইলের মধ্যে পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে ২৯০টি। বাকি চারটি পাইলের কাজ মধ্য জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা আছে। সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৯টির। জাজিরায় সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারে পাইলের কাজ চলছে। ২৬, ২৭ নম্বর পিলারে সাতটি পাইলের মধ্যে ৫টি পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়ে গেছে। চীন থেকে আরও দুইটি স্প্যান মাওয়ার পথে রয়েছে। ৮টি স্প্যান ইয়ার্ডে ফিটিং করা হচ্ছে। ১৫ তম স্প্যান মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। ডাঙ্গায় থাকা দুই পিলারে ১৬টি পাইল। পদ্মাসেতুর পিলারের একেকটি পাইল লোড ৮ হাজার ২০০ টন। সেতুর ৫ নম্বর মডিউল এর ৫-ডি স্প্যানটি স্টোর করা হয়েছে। ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এর পাশে রাখা হয়েছে। ৫-ই স্প্যানটিও রাখা হয়েছে, যা বসবে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারে। রেলওয়ে স্ল্যাব বসেছে ৩২০টি ও রোডওয়ে স্ল্যাব ৩০টি।

এদিকে চীনে প্রস্তুত বাকি ১৫টি স্প্যান যথাসময়ে মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলেমিটার মূল সেতুটির সংযোগ সেতুসহ দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৯ কিলোমিটার। এ সেতু ২০২০ সালের শেষের দিকে চালু করা হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি স্প্যান আমাদের অস্থায়ীভাবে রাখতে হবে। পাঁচ-ছয় মাস পর হয়তো এই অবস্থা থাকবে না।

এ মডিউলের প্রথম স্প্যানটি একদিনেই মাওয়া থেকে এনে বসিয়ে দেয়া হলেও তীব্র স্রোতের কারণে দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে সময় লেগেছে ২ দিন। তাই তৃতীয় স্প্যানটি মাওয়া থেকে নিয়ে দিনের দিন বসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও স্রোতের কারণে সমস্যা হলে স্প্যান বসাতে বাড়তি একদিন সময় হাতে রাখা হয়েছে।

 

এএস