প্রধানমন্ত্রী থেকে জনগণ সবার নারায়ণগঞ্জের তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যকাণ্ড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী যদি খুনীদের পক্ষ নেন তাহলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শুক্রবার দুপুরে ‘ত্বকী হত্যা : বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের ভূমিকাই সুশাসন ও গণতন্ত্রের অন্তরায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ সব মন্তব্য করেন। ত্বকী হত্যার দেড় বছর উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমি ইতিহাস বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি ত্বকীর বিচার হবেই। প্রধানমন্ত্রী আজ সবকিছু সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও যদি তিনি খুনীদের পক্ষ নেন তাহলে ইতিহাস তাকেও ক্ষমা করবে না।’

তিনি বলেন, ‘যখন ত্বকীকে হত্যা করা হয় তখন এর দায়গুলো এড়ানোর জন্য সরকারের নেতারা বিভিন্ন সময় অনেক কথা বলেছেন। আজ যখন তদন্ত শেষ হয়েছে তখন আবার সরকারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ শুধু ত্বকী নয় সারা দেশেরে সকল হত্যাকাণ্ডেরই বিচার চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ জনগণ কখনও পরাজিত হবে না। পরাজিত হবে গডফাদাররা। আমরা আমাদের সংগ্রামের মধ্যে রয়েছি। এই জন-আন্দোলনের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ত্বকীর হত্যাকাণ্ড একটা রাজনৈতিক অপরাধ। তবে ত্বকী কোনো অপরাধ না করলেও বিভিন্ন গডফাদারদের বিভিন্ন কাজে বাঁধা দিয়ে অপরাধ করেছিল ত্বকীর বাবা। শুধু রাব্বিকেই নয় দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানোই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য।’
একের পর এক অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়াতেই দেশে অপরাধ ক্রমাগত বাড়ছে। পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ত্বকী মঞ্চের এই আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই আন্দোলন হবে সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার আন্দোলন।’
ভাষাসৈনিক কামাল লোহানী বলেন, ‘ওসমান পরিবার সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী কিভাবে তাদের পক্ষ নেয়? তিনি জনগণের সরকার হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন। তিনি গডফাদারদের সরকারে পরিণত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আজ না হলে কাল, না হয় ছয় মাসে ত্বকী হত্যার বিচার হবে, কিন্তু হয়নি। এ থেকে বুঝা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কথার কোনো মূল্য নেই।’
এভাবে সভা সমাবেশ না করে সবাইকে জনগণের মাঝে নেমে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. শফিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জনমনে সচেতনতা ছাড়া বিপ্লব সম্ভব নয়। এই ইস্যুই রূপান্তরিত হোক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।’
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘এখানে আইন আর নিজের গতিতে চলে না। আইন চলে অর্থ আর ক্ষমতার জোরে। ত্বকী হত্যার ন্যায় হাজারও হত্যাসহ এই সরকার আজ তাদের অপকর্ম নিয়ে এতই বেশি সন্ত্রস্ত যে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধেও হাত দিয়েছে। যাতে একটু নিরাপদে থাকতে পারে।’
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী খান, অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রমুখ।
ঢাকা, ৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





