সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. মঈন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার মৃত্যু নিয়ে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর) এর চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেছেন, “করোনা যুদ্ধে চিকিৎসক সমাজের প্রথম শহীদ ডা. মঈনউদ্দিন!”
তিনি আরও বলেন, “পিপিইর নামে দেওয়া রেইন কোট আর এন৯৫ এর নামে দেশী কাপড়ের মাস্ক তাকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। জীবন দিয়ে তাই সে প্রমান করে গেলো, কত অনিরাপদ বাংলাদেশের চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা!
আল্লাহ ডা. মঈনউদ্দিনকে বেহেশত নসীব করুন এবং করোনার এই দুর্যোগের কালে লুটপাট সিন্ডিকেটের সবাইকে আরো বেশী বেশী লুটপাটের তওফিক দান করুন। আমিন! ”
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন এই কথাগুলো লিখেছেন। নিচে তার ফেসবুক টাইমলাইনের লেখাটি হুবুহু টাইমনিউজবিডি’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
“করোনা যুদ্ধে চিকিৎসক সমাজের প্রথম শহীদ ডা. মঈনউদ্দিন!
কেন চোখ সজল হয়ে আসছে বারবার? কেন আমি কেঁদেই চলেছি? মঈনউদ্দিন তো আমার কেউ না। ঢাকা মেডিক্যালে ছয় বছরের জুনিয়র ছিল এ আর এমন কী! গত অক্টোবরে সিলেট মেডিক্যালে আমি লেকচার দিতে গেলে এক ফাঁকে এসে দেখা করে গেছে, যেন কতকালের পরিচিত ছোট ভাইটা আমার। সিলেট মেডিক্যালের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক, অনেক নাম করা চিকিৎসক। নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে সবাই বলেছে, বাসায় থাকো, ভাল হয়ে যাবে। ওর ভাল লাগে না। নিজে চিকিৎসক হয়ে টের পায় কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। সিলেটের কোভিড চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড শামসুদ্দিন হাসপাতালে ওকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। আমি সিলেটে অনেকের সাথে কথা বলি। সাধারণ রোগীদের ক্ষতি হবে বলে ওকে সিলেট মেডিক্যালের আইসিইউতে নেওয়া হয় না।
মঈন ছোট্ট করে একটা মেসেজ পাঠায় এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে চায়। পদমর্যাদার ঘাটতিতে ওকে আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনতে পারি না। তা মেনেও নেই, তখনো সে অতটা খারাপ হয়নি। শুধু নাক থেকে অক্সিজেনের নল সরলেই অসুস্থ বোধ করে। ওকে ঢাকায় আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে গিয়ে আমরা টের পাই, দেশের সামনে না জানি কী অপেক্ষা করছে! কোন অ্যাম্বুলেন্স ওকে আনতে রাজি হয় না। বহু কষ্টে একটা অ্যাম্বুলেন্স যোগাড় করে ওকে ঢাকায় এনে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএমএর মহাসচিব দুলাল ভাই আগে থেকেই ওর ভর্তির ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। গত দুদিন ধরে অবস্থার অবনতি হলে ওকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।
আজ সকাল ৭.৫০টার দিকে মঈনউদ্দিন আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। পিপিইর নামে দেওয়া রেইন কোট আর এন৯৫ এর নামে দেশী কাপড়ের মাস্ক তাকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। জীবন দিয়ে তাই সে প্রমান করে গেলো, কত অনিরাপদ বাংলাদেশের চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা!
আল্লাহ ডা. মঈনউদ্দিনকে বেহেশত নসীব করুন এবং করোনার এই দুর্যোগের কালে লুটপাট সিন্ডিকেটের সবাইকে আরো বেশী বেশী লুটপাটের তওফিক দান করুন। আমিন! ”
এর আগে বুধবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. মঈন। তিনি সিলেটে করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রেজা জানান, ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. মঈন।
এমবি





