তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী-নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টন করতে হবে। দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে থাকলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের এক পয়সাও তছরুপ হয় না, হবে না। জনগণের জন্য যা বরাদ্দ হয়, তা-ই জনগণের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ কিংবা স্বজনপ্রীতি জামায়াতে ইসলামী করে না এবং করতে দেবে না।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বাউফল উপজেলা সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত ৩০০ পরিবারের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৫ বছর ধরে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরাই হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের এ দেশে সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করেছেন। সরকার নাগরিকদের মধ্যে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করে সমাজে এক ন্যক্কারজনক বৈষম্য তৈরি করেছে। জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজন কিংবা সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাগরিকদের বিবেচনায় বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে এক ও অভিন্ন।

সরকারের ব্যর্থতা ও বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে মন্দির পাহারা দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে হিন্দুদের পূজা বা উৎসব পালন করতে পাহারা দিতে হবে না। মসজিদ যেভাবে পাহারা দিতে হয় না, মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও সেভাবে পাহারা দিতে হবে না। তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের জন্য দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া ৩০০টি শাড়ি উপজেলার অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র ৩০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ সময় বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বাউফল উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এনএইচ















