শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত কার্যালয়-সংলগ্ন হাজী শরীয়তুল্লাহ এতিমখানায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, সাত দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সরকার জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
তিনি সাত দফা দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, এর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, সাত দফা দাবিতে সরকার পতনের কোনো দাবি নেই। সরকার দাবিগুলো মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্যথায় সাত দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে।
লংমার্চের কর্মসূচি তুলে ধরে মোবারক হোসাইন বলেন, সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলের উদ্যোগে এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ হবে।
তিনি জানান, ওই দিন সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। মাওয়া সড়ক ও পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট পেরিয়ে রূপসা সেতু দিয়ে বহরটি খুলনায় পৌঁছাবে। পরে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় যাবে।
লংমার্চের পথে কয়েকটি স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে, বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং দুপুর ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে।
এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
মোবারক হোসাইন আশা প্রকাশ করেন, কুষ্টিয়ার সমাপনী কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. এনামুল হকসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এস














