সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন বলেন, দেশের অগ্রগতির অন্যতম বড় বাধা দুর্নীতি। দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবে জাতি বারবার প্রতারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেখতে পান বলেও জানান।

দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অডিটে ৫২৪টি আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তাঁকে জানিয়েছেন, গত দুই বছরে মাত্র একটি আপত্তি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। একটি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে দুই বছর লাগলে বাকি ৫২৩টি নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কামাল হোসেন আরও বলেন, অডিট আপত্তিগুলোর সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ জড়িত। অথচ সেগুলো বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অডিট কার্যক্রম এখনো পাঁচ বছর আগের হিসাব নিয়ে আটকে আছে। ২০২৬ সাল শেষ হতে চললেও ২০২০ ও ২০২১ সালের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাঁদের হাত ধরেই দেশ দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নেন কামাল হোসেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জকসু) সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এস