প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে মাইক্রোসফট জানায়, আলোচ্য প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড ব্যবসা। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ বেশি। ক্লাউড সেবার মধ্যে অ্যাজুর থেকে আয় হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। আর মাইক্রোসফট ৩৬৫ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার।
ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার চাহিদা বাড়ায় মাইক্রোসফটের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ক্লাউড খাতের সব আয় এআই-সংশ্লিষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচলিত সফটওয়্যার ও অনলাইনভিত্তিক সেবা পরিচালনার জন্যও অ্যাজুর ব্যবহার করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে ওপেনএআই থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে মাইক্রোসফট। ওপেনএআই অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ও ওরাকলের মতো অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সেবাও ব্যবহার করছে। তবে তাদের অনেক সেবা এখনো মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোয় পরিচালিত হয়। এ ছাড়া অ্যানথ্রপিকও অ্যাজুর ব্যবহার করে।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক আয়ের পরিমাণ বেড়ে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ পরিমাণ ৭৩ শতাংশ বেশি। ভবিষ্যতের এই আয় নিশ্চিত করতে ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আলোচ্য প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয় হয়েছে ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা এক প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ব্যয়। অন্যদিকে, ডিভাইস ও ভোক্তাপণ্য বিভাগে আয় হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। এ বিভাগে উইন্ডোজের জন্য কম্পিউটার নির্মাতাদের কাছ থেকে পাওয়া আয় এবং ডিভাইস বিক্রির আয় কমেছে ২২ শতাংশ।
আর্থিক ফলাফল বলছে, ক্লাউড ও এআই খাতের বাড়তি চাহিদা মাইক্রোসফটের প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। তবে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ক্লাউড অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে।
এস
















