স্বল্প সময়ের এই সফর শেষে আবারও চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে লন্ডনের ফ্লাইট ধরেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

দেশে অবস্থানের পুরো সময়জুড়েই ইলিয়াস কাঞ্চনের পাশে ছিলেন লিটন এরশাদ। বিদায়ের আগে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। এ সময় সংগঠনের কার্যক্রম ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়েও দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়।

যাওয়ার আগে কাঞ্চনের একটাই আবদার

লিটন এরশাদ জানান, লন্ডনে ফিরে যাওয়ার আগে ইলিয়াস কাঞ্চন বারবার একটি কথাই বলেছেন, তার জন্য যেন সবাই দোয়া করেন। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও সংগঠনের কার্যক্রম যেন আগের মতোই চালিয়ে যাওয়া হয়, সেই অনুরোধও করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতেও ইলিয়াস কাঞ্চনের গুলশানের বাসায় ছিলেন লিটন এরশাদ। বিদায়ের আগের রাতে অভিনেতার সঙ্গে কাটানো সময়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

সেখানে লিটন এরশাদ লেখেন, ১২ আগস্ট সকাল ১০টায় ইলিয়াস কাঞ্চনের ফ্লাইট। ভোরেই গুলশানের বাসা থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল তার। বিদায় জানাতে গিয়ে সংগঠন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনাও দিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

লিটন এরশাদ আরও জানান, ইলিয়াস কাঞ্চনের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ সড়ক চাইয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

ilias-kanchan-in-2-20260812151400

চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন লন্ডনে

ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতার কারণে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। গত বছরের এপ্রিল থেকে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। চিকিৎসার একপর্যায়ে গত বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমার পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যেও দেশের প্রতি টান এবং সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা থেকেই এবার অল্প সময়ের জন্য দেশে ফিরেছিলেন এই অভিনেতা। ৩ আগস্ট দেশে ফেরার পর কাছের মানুষ ও সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি।

তবে শারীরিক অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন দেশে থাকা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আবারও লন্ডনে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও সক্রিয়

অভিনয়ের পাশাপাশি ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয়। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠন।

দেশে থাকার সময়ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে খোঁজখবর রেখেছেন তিনি। লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

দেশ ছাড়ার আগের রাতেও লিটন এরশাদের সঙ্গে নিরাপদ সড়ক ও সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এতে বোঝা যায়, শারীরিক অসুস্থতা তাকে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন

অভিনেতার লন্ডনে ফিরে যাওয়ার খবরে তার ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা প্রিয় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শুভকামনা জানাচ্ছেন।

বিদায়ের আগে ইলিয়াস কাঞ্চনের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল সবার দোয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী লন্ডনে পরবর্তী চিকিৎসা নেবেন তিনি। ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দেশে ফিরবেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

অভিনয় ও সামাজিক আন্দোলন-দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা রয়েছে। তাই তার এই কঠিন সময়ে তার জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

এমএম