প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট আগামীকাল বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণে নতুন গতি পাবে।
সিয়াম বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলও তুলনামূলক ছোট রাখা হয়েছে; এতে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ফলপ্রসূ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণ এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও শ্রম সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্পায়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও চীনের সঙ্গে আলোচনা হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্পাঞ্চল গঠন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে এ সফর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএম