বুধবার (২৯ জুলাই) ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এর ভিত্তিতে আফরোজা শেখ ইতিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিচার চলাকালে হাজতে থাকা সময় সাজার মেয়াদের সাথে সমন্বয়ের নির্দেশও দেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনি এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সপু প্রথমে মাহমুদা আক্তার কুমুকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে আফরোজা শেখ ইতিকে দ্বিতীয় বিয়ে করলে দুই স্ত্রীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য কলহ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সাথে যোগাযোগ রাখাকে কেন্দ্র করে আফরোজা শেখ ইতি প্রায়ই স্বামীকে হুমকি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যা থেকে ১৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময় ইতি, তার ভাই দীন ইসলাম ও অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় শ্বাসরোধ করে শফিকুল ইসলাম সপুকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে লাশ নগরীর আকুয়া এলাকার একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখা হয়। ১৩ জুন স্থানীয়রা পুকুরে মানুষের একটি হাত ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কচুরিপানার নিচ থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী ও নিহতের মা নুরুন্নাহার অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে আফরোজা শেখ ইতি এর আগে কোতোয়ালি মডেল থানায় স্বামী নিখোঁজ দাবি করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এটি ছিল হত্যার ঘটনা আড়াল করার পরিকল্পিত কৌশল।
তবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেননি নিহতের মা। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি জানান, তিনি আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন।
রায়ে আদালত আরো উল্লেখ করেন, একই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় ২০১ ধারায় পৃথক কোনো সাজা দেয়া হয়নি। এছাড়া আদায়কৃত জরিমানার অর্থ থেকে মামলার ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৫(১)(বি) ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাদী নুরুন্নাহারকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার পর আদালত সাজা পরোয়ানা জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত আফরোজা শেখ ইতিকে সাজা ভোগের জন্য ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এস