রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে এলাকায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে। বারবার ডিলারের কাছে গিয়েও তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। তাদের দাবি, কিছু ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারি নির্ধারিত দামের পরিবর্তে বেশি দামে খোলা বাজারে সার বিক্রি করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে মজুত করেন। দীর্ঘদিন সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা রোববার সকালে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কৃষকদের একটি অংশ নেওয়া সার ফেরত দিয়ে দেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। তাদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে ওই ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু লোক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর গুদাম থেকে লুট হওয়া বাকি সার উদ্ধারে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানিয়েছেন, তিনি ও সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এস