শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত থেকেই জেলেরা নদীতে নামেন। রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলেদের আনাগোনা আর পাইকারদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছে মাছের বাজারগুলো।
প্রথম দিনেই বড় আকারের ইলিশ কম পাওয়া গেলেও মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশে ভরে গেছে বাজার। বিক্রেতারা জানান, এখন বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতি মণে প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো।
ইলিশ বিক্রেতা সম্রাট বলেন, “বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম, তাই দামও বেশি। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি হালি (প্রায় ২০০ গ্রাম ওজন) বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়। এক কেজির কাছাকাছি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়।”
জেলে কাদির জানান, “মেঘনায় ছোট ইলিশ বেশি, তাই পদ্মায় গিয়েও বড় মাছ পাইনি। মাঝারি ১২টা ইলিশ ধরেছি, তেল খরচেই প্রায় সব চলে যাবে।”
আড়তদার ঈসমাইল বলেন, “ইলিশের দাম কমাতে হলে নদীর সংরক্ষণ ও খনন জরুরি। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ হলে সাগর থেকে আরও বেশি ইলিশ আসবে।”
অনলাইন বিক্রেতা সজীব জানান, “নিষেধাজ্ঞার সময় বহু অর্ডার ডেলিভারি দিতে পারিনি। এখন অর্ডার দিচ্ছি, তবে দাম আবারও বাড়ছে।”
ক্রেতা সফিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও ইলিশের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। আগে এক কেজি ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,১০০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটা ২,৩০০ টাকা। সাধারণ ক্রেতার কোনো লাভ নেই।”
চাঁদপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, “প্রাকৃতিক ইলিশ ধরা নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন ভালো সিজন শুরু হয়েছে। আশা করছি, সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে।”
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী একযোগে কাজ করেছে। অবৈধ জাল জব্দ, জেলে আটক ও জরিমানাসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এখন বাজারে যাতে ইলিশের দাম ক্রেতাদের নাগালে থাকে, সে জন্য হাটবাজারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
এনএইচ