নিহতরা হলেন—উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫)। তিনি উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ওলামাদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই এলাকার দরগাহ পাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব। অপরজন একই মসজিদের মুয়াজ্জিন, চরশরৎ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খতিব ও মুয়াজ্জিন দুজন মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে জোরারগঞ্জের চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, "মাওলানা জয়নাল আবেদীন ও একই মসজিদের মুয়াজ্জিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একসাথে নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। খবরটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা আল্লাহর ঘর মসজিদের কাজে আমার কাছে আসার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। আল্লাহ তাদের জান্নাত নসীব করুন—এই দোয়া করি। আমি তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি।"

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জমির উদ্দিন জানান, মাওলানা জয়নাল আবেদীন ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরৎ ওয়ার্ড ওলামা দলের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ইমামদের সরকারি ভাতা সংক্রান্ত কাজে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের সাথে দেখা করতে মুয়াজ্জিনসহ মোটরসাইকেলে বারইয়ারহাট যাচ্ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাফায়াত হোসেন বলেন, "দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি পুলিশ ও স্বজনদের জানানো হয়েছে।"

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এস