বুধবার (২১ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
কোন বয়সী শিশু বেশি মারা গেছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৭ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮৮৪ জন। আর শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৩২ জনের।
গ্রামীণ সড়কে বেশি প্রাণহানি
সড়কের ধরন অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বসতবাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় গ্রামীণ সড়কে শিশুরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব সড়কে যানবাহন চলাচলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকিতেও ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে শিশুদের সচেতনতার অভাব রয়েছে।
পথচারী শিশুদের মৃত্যুর বড় কারণ তিন চাকার যান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথচারী হিসেবে নিহত ২ হাজার ৮১২ শিশুর মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন বা ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ তিন চাকার যানবাহনের ধাক্কায় মারা গেছে। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটি।
এ ছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের চাপা বা ধাক্কায় ১ হাজার ১২৬ শিশু এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ শিশু নিহত হয়েছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেছে আরও ৯৮ শিশুর।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে মৃত্যু ৩১ শতাংশের বেশি
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৬২ শিশু।
সময়ভিত্তিক হিসাবে, বিকেলে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮ এবং দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ শিশু। এ ছাড়া রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ ও ভোরে ২০৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
শিশুদের সড়ক নিরাপত্তায় ছয় সুপারিশ
শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার পেছনে ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো—
- সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া।
- নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের সচেতনতার অভাব।
- পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া।
- অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো।
- দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসার সংকট।
- আহত শিশুদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।
এসব সমস্যা সমাধানে সংস্থাটি ছয়টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক ও পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে শিশুরা উদ্বেগজনক হারে হতাহত হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
এস















