শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলো ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা সহজ করতে প্রায় ২১টি বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, বিজিবি সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।

পূজার সময় গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি। কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন ও উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন পাশে থাকবে। সবার সহযোগিতায় দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এস