[b]ঢাকা:[/b] বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তা (ইউএস এইড) ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে একান্তে আলোচনা শুরু করেছেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শীতল (টেম্পার) রাখা উচিত। খবর মানবজমিনের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশে যেখানে গণতন্ত্র নেই,এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে না এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র স্বাভাবিক কার্যকর আছে এমন ভাব ধরে চুপ করে থাকতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’। এ ছাড়া, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে অবজ্ঞা করে শেখ হাসিনা সরকারকে শর্তহীন সমর্থন দেয়ার ভারতের নীতিকে দেশটির ‘অদূরদর্শী’ সিদ্ধান্ত এবং ‘সংকীর্ণ নীতি’ বলে মনে করছে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে নিয়মিত পরামর্শ প্রদানকারী আমেরিকার এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির মতে, ‘শেখ হাসিনা সরকারকে শর্তহীন সমর্থন দেয়ার ভারতের অদূরদর্শী নীতি উল্টো ভারতের জন্যই বুমেরাং হয়ে দেখা দিতে পারে, কেননা হাসিনা সরকারের ক্রমবর্ধমান একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে বাংলাদেশ আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা ভারতের স্বার্থের অনুকূল নয়।’ গতকাল বাংলাদেশের সামপ্রতিক একতরফা নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশের রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিস উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
লিসা কার্টিস যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। ভারত পাকিস্তান আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। বিশ্বের সংঘাত সঙ্কুল এবং দ্রুত-পরিবর্তনশীল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে তার সঠিক মূল্যায়ন ও পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লিসা ইতিমধ্যেই মার্কিন আইন প্রণেতাগণসহ বিশ্বের বিখ্যাত সংবাদ সংস্থাগুলোর কাছে পরম নির্ভরযোগ্য হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। ভারত, পাকিস্তান, মৌলবাদী ইসলাম ও বিদেশে আমেরিকার ইমেজ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি শুনানিতে লিসা কার্টিস টেস্টিফাই করেছেন। হেরিটেজ ফাউন্ডেশন সমপ্রতি সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিস ও যুক্তরাষ্ট্রের অপর থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ‘হাডসন ইন্সটিটিউট’-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মানিজা হোসেন-এর যৌথ রচনা ‘কমব্যাটিং ইসলামিজম ইন সাউথ এশিয়া: কিপিং বাংলাদেশ অন দ্য ডেমোক্রেটিক প্যাথ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মানিজা হোসেন একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত স্কলার এবং তিনি বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাকের একজন পরিচালক। বিগত ২০শে ডিসেম্বর ২০১৩ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে ‘একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থেই জরুরি’ বলে মত প্রকাশ করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ব বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সমর্থন করতে পরামর্শ দেয়া হয়: ১. ৫ই জানুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন এবং একজন নির্দলীয় টেকনোক্রেটকে ওই সরকারের প্রধান করে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা; ২. আগামী দিনে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠান তদারকির জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলকে একটি স্থায়ী স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনে যৌথভাবে কাজ শুরু করা; ৩. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-২ এর কার্যক্রম আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং এর কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না তা নিশ্চিত করা; ৪. আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যেন এই অঞ্চলের সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখে তা নিশ্চিত করা; ৫. বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করা; ৬. বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-উপস্থিতি বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্যে, বাংলাদেশে অধিকসংখ্যক নৌ-বন্দর স্থাপন ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ নৌ-মহড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অঞ্চলের মেরিটাইম নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে অধিকতর সক্ষম করে তোলা। যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকাল-মিলিটারি এফেয়ার্স বিষয়ক প্রাক্তন সহকারী মন্ত্রী এন্ড্রু শাপিরো’র গত বছরে প্রদত্ত এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনের এই অংশে আরও বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের নৌ-নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ও পাইরেসি মোকাবেলার মাধ্যমে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিগত ২০০৯ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চারটি যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
এই অঞ্চলের মেরিটাইম নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের যৌথ নৌ-মহড়া আরও সমপ্রসারণ এবং সহযোগিতার আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা উচিত বলে মন্তব্য করে ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান নেভাল উপস্থিতিকে ব্যালেন্স করতে সহায়ক হবে; এবং ৭. বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে একটি শক্তিশালী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিনির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের গতিশীল ভূমিকা রাখা। গবেষণা প্রতিবেদনের এই অংশে বলা হয়,এ অঞ্চলে সন্ত্রাস প্রতিরোধ, মেরিটাইম নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র বিনির্মাণে ভারত-বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঢাকা ও নয়া দিল্লির কাছে এই ধারণা বিশ্বোসযোগ্য করে তুলতে অনেক শ্রম দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। কেননা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ভিন্ন হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি নিয়ে পুরো ৮০-র দশকেই ভারত যথেষ্ট সন্দিহান ছিল। তবে ভারতকে যদি আশ্বস্ত করা যায় যে, বাংলাদেশে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সহযোগিতা এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব হ্রাসে ভূমিকা রাখবে তাহলে ভারত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে সমর্থন করবে। ‘বাংলাদেশ বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক চায়’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটি অতীতে ক্রমাগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে বলে এসেছে ভারতের চোখে বাংলাদেশকে না দেখতে। এমতাবস্থায় ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পরকে আস্থায় নিয়ে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অগ্রাধিকার দিতে ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দেয়া হয়।
কিন্তু বাংলাদেশে গত ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর এই অঞ্চলে ভিন্ন বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনমতের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন ঘটেনি বলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমনওয়েলথ সহ পশ্চিমের বেশির ভাগ দেশ ‘বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নতুন করে দ্রুত সংলাপ শুরুর আহ্বান’ জানালেও ভারত, রাশিয়া, চীনসহ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হতে পারে যে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস করতে ভারত, রাশিয়া ও চীন একত্রে কাজ করছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পূর্ব এক প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, তারা একটি স্বাধীন (যে কারও প্রভাবমুক্ত) বাংলাদেশ দেখতে চায়।’ এই প্রেক্ষাপটে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিসের কাছে গতকাল মানবজমিনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান, এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন যাবৎ দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। সমপ্রতি বাংলাদেশের এক দলীয় নির্বাচন বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন অবস্থান আমরা দেখতে পাচ্ছি। এমনকি বাংলাদেশের যে নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে, সেই নির্বাচনকে ভারত স্বীকৃতি দিয়ে রাশিয়া ও চীনের পাশে অবস্থান করছে। তবে কি আমরা ধরে নিতে পারি যে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র যেখানে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বিষয়েই একমত হতে পারছে না, সেখানে এতদিন ধরে প্রচলিত মিথ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ‘ন্যাচারাল এলাই’ তা সত্য নয়, ভারত কখনও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারাল এলাই হতে পারে না? এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে লিসা কার্টিস এই প্রতিনিধিকে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। গণতন্ত্র বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিন্ন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাচারাল এলাই’ হিসেবে ভারতের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাবজাত মিত্র হিসেবে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের পক্ষে এই অঞ্চলে এবং এই অঞ্চলের বাইরে গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে যাওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে অবজ্ঞা করে শেখ হাসিনা সরকারকে শর্তহীন সমর্থন দেয়ার ভারতের সংকীর্ণ নীতি প্রমাণ করে যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক স্বার্থ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সবসময় সমান্তরাল হবে না। শেখ হাসিনা সরকারকে শর্তহীন সমর্থন দেয়ার ভারতের অদূরদর্শী নীতি উল্টো ভারতের জন্যই বুমেরাং হয়ে দেখা দিতে পারে, কেননা হাসিনা সরকারের ক্রমবর্ধমান একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে বাংলাদেশ আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা ভারতের স্বার্থের অনুকূল নয়।’
‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিসের নিকট আরও জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হবে, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?’ এমন প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই প্রতিনিধিকে লিসা কার্টিস বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের অবশ্যই বাংলাদেশকে চাপ দিতে হবে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় এবং নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদলীয়স জোটের অংশগ্রহণ না থাকায়, এই নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় কারও নিকটই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায়দায়িত্ব এখন শেখ হাসিনার ওপর, তার উচিত এখন নিজে দায়িত্ব নিয়ে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করা এবং একটি নতুন নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে একযোগে কাজ করা।’ লিসা কার্টিস আরও বলেন, আর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শীতল (টেম্পার) রাখা উচিত। সকলেরই বোঝা উচিত যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশে যেখানে গণতন্ত্র নেই, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে না এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র স্বাভাবিক কার্যকর আছে এমন ভাব করে থাকতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র।’ ওপরের প্রশ্নের জবাবের শেষ প্যারায় লিসা কার্টিস অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিদ্যমান শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহায়তা কার্যক্রম (ইউএস এইড) অব্যাহত রাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ খুব কমই থাকবে। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মার্কিন আইন প্রণেতাগণ ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে একান্তে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।’
‘বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তা ঝুঁকির মুখে’
ঢাকা: বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তা (ইউএস এইড) ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে একান্তে
শাপলা চত্বর গণহত্যা শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলাচত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আজ।
শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়: প্রতিমন্ত্রী
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—ইতিহাসের এই সত্য মুছে ফেলা যাবে না।
গ্রেপ্তার ২ নওগাঁয় শেখ হাসিনা আসবে বলে মাইকিং
নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
















