রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের খলিশাকুড়ি এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন?” জবাবে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘না’ বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়নি, কোনো শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দিয়ে গেলেও বিএনপি সরকার কেবল কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ কিংবা শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। শুধু একজন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁকেও নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেও ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলীয় লোকজনের বাইরে বিএনপি সরকার একজন পিয়নও নিয়োগ দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ের সড়ক সংস্কারকাজ প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, জেলায় যেসব সড়কের সংস্কারকাজ চলছে, সেগুলোর অনুমোদন দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর শেষ করার আগেই কেন তা বন্ধ হয়ে গেল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দের টাকা দলীয় নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতাদের মুখে এখন একটাই কথা—‘১৭ বছর না খেয়ে ছিলাম’। তাঁর অভিযোগ, আগের ১৭ বছর আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করেছে, আর এখন বিএনপি একইভাবে দুর্নীতি শুরু করেছে। দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সার সরবরাহেও ব্যর্থ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব পণ্যের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ইতিহাসও বিএনপির রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সারসংকট ও কৃষকদের দুর্ভোগের অভিযোগ

কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, সে প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, দলীয়করণের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সারের ডিলার নিয়োগ দিচ্ছে বিএনপি সরকার। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজনকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, ছেলে, ভাই ও পুত্রবধূকেও সারের ডিলার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর মতে, দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে দেশে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না এবং কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আগামী আলু চাষের মৌসুমে কৃষকদের সার পেতে আরও সমস্যায় পড়তে হবে। তাঁর অভিযোগ, সারের সংকট আরও তীব্র হবে এবং দলীয় লোকজনের মধ্যে সার ভাগ-বাঁটোয়ারা করে পাচার করা হবে।

কৃষকদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি

কৃষক পরিবারের সুরক্ষায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় জরুরি উল্লেখ করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, তাঁর দল বিজয়ী হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পাবেন। সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন বরাদ্দের তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে এবং বরাদ্দের অর্থ সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আগামী ২৯ অক্টোবর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান দেলাওয়ার হোসেন।

দেবীপুর ইউনিয়ন আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং ভুল্লী উপজেলা তারবিয়ত সেক্রেটারি মাওলানা আজগর আলীর পরিচালনায় উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি ইসমাইল বিন হায়দারসহ ১১-দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএইচ