নদীপথে চরম দুর্ভোগ ও ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের ঘোষণা
পরিদর্শনকালে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং যাতায়াতে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। চারদিকে নদীঘেরা এই দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা যে কতটা কষ্টসাধ্য এবং চ্যালেঞ্জিং, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাউফলের এই দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। গর্ভবর্তী নারী বা কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগী যাতে নদী পারাপারের সময় অবহেলায় প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য তিনি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মানুষের জন্য দ্রুত একটি ‘ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’ চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। নদীপথের এই আধুনিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিজেদের দ্বীপে কাছে পেয়ে এবং কোনো রাখঢাক ছাড়াই সরাসরি নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন চন্দ্রদ্বীপের সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, অতীতে কোনো সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধিকে এভাবে তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে বা তাদের সমস্যার কথা শুনতে দেখেননি। এমনকি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বারদেরও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়মিত পাওয়া যেত না। একজন সংসদ সদস্যকে নিজেদের পাশে পেয়ে এলাকার মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
মাদককে না, খেলাধুলায় হ্যাঁ: যুবসমাজ রক্ষায় ফুটবল উপহার
দ্বীপের তরুণ সমাজকে ধ্বংসাত্মক পথ থেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ বিনোদনে সম্পৃক্ত করতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তিনি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের যুবকদের মাঝে ফুটবল উপহার দেন। এ সময় তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে মাঠমুখী করতে হবে এবং খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।” তাঁর এই ক্রীড়াবান্ধব উদ্যোগ এলাকার যুবসমাজ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
জনগণের ঐক্য ও সহযোগিতার আহ্বান
এলাকার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বাউফল উপজেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ চ্যালেঞ্জিং দ্বীপাঞ্চল। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করব। তবে শুধু এককভাবে নয়, এই অঞ্চলের সামগ্রিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে আপনাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সুদৃঢ় ঐক্য প্রয়োজন।” এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজকে রক্ষা করার এই বহুমুখী পদক্ষেপ চন্দ্রদ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা দূর করে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।
এমএম
















