জানা গেছে, দিনের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও রাতের কনকনে শীতের কারণে গাইবান্ধায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগ বেড়েছে। জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বরাদ্দ ২০টি বেডে জায়গা না হওয়ায়, অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়ির উপর অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

তুলশীঘাট গ্রামের রাশেদা বেগম জানান, তার পাঁচ বছরের মেয়ে রানির হঠাৎ পেটব্যথা ও বমি শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হন। বোয়ালী গ্রামের মো. রাজ্জাক বলেন, ‘আমার ছেলে কিছুদিন আগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও আবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।’

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের নার্স মোছা. রাজিয়া সুলতানা জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০টি বেড থাকলেও প্রতিদিন তিনগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল আজাদ মণ্ডল বলেন, ‘শীতকালীন রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। মায়েদের আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাসি ও খোলা খাবার এড়িয়ে চলা এবং গরম কাপড় পরিধান করানো জরুরি।’

গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া রোগীদের জন্য মাত্র ২০টি বেড থাকলেও প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া উপজেলাগুলোর হাসপাতালেও একই রকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এইচআর