গুরুতর আহতাবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেরজান জিদনী (২৩) স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দী এলাকার বিএনপির প্রয়াত নেতা সিরাজের মেয়ে। দেড় মাস বয়সি তার একটি পুত্রসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

জিদনীর স্বামী ছাত্রলীগ নেতা সুমন (২৮) আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও স্থানীয় মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে।

মৃতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ যৌতুকের দাবিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে জিদনীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মৃতের মা নাজমার অভিযোগ, সুমনের সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছর প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে দুই বছর আগে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন করতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই মধ্যে দুবার মোটা অংকের টাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেওয়া হয়েছে। তাতেও তারা মেয়ে জিদনীকে নির্যাতন করত, তাকে বাবার বাড়িতে আসতে দিত না।

এদিকে সুমনের মা জানান, কোনো প্রকার যৌতুক তারা দাবি করেনি। তবে কেন কী কারণে জিদনীর মৃত্যু হয়েছে তা আমি বলতে পারছি না।

আড়াইহাজার থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে বলা যাবে।

এনএইচ