চীনে ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর সরকারি নিপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিশিষ্টতম প্রতিভূ সম্ভবত আই ওয়েওয়ে, বিশেষত করে জার্মানির মানুষদের কাছে৷ শিল্পীর অনুপস্থিতিতেই বার্লিনে চলেছে তার সর্বাধুনিক শিল্পকলার প্রদর্শনী৷
আই ওয়েওয়ে-র বৃহত্তম একক প্রদর্শনীতে তার নিজের উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি, কেননা তার পাসপোর্ট এখনও চীন সরকারের হাতে৷ বার্লিনের মার্টিন-গ্রোপিয়ুস-বাউ মিউজিয়ামের ১৮টি কক্ষ জুড়ে ‘‘আই ওয়েওয়ে – সাক্ষ্যপ্রমাণ'' নামধারী যে প্রদর্শনী চলেছে, তা শিল্পীর কনসেপচুয়াল আর্টের মাধ্যমে এক গভীরভাবে রাজনৈতিক অভিব্যক্তি৷
বার্লিনের প্রদর্শনী শুরু হয় বৃহস্পতিবার, চৌঠা এপ্রিল, ২০১৪ তারিখে৷ এর ঠিক তিন বছর আগে চীনে আই ওয়ে ওয়ে-কে গ্রেপ্তার করে ৮১ দিনের জন্য কারাগারে রাখা হয়৷ বার্লিনের প্রদর্শনীতে আই ওয়েওয়ে-র সেই সাদা সেল বা কারাকক্ষের একটি হুবহু নকল সাজানো রয়েছে, এমনকি কমোড ও হাত-মুখ ধোয়ার বেসিন পর্যন্ত বাদ পড়েনি৷ কারাকক্ষের দেওয়াল ফোম দিয়ে ঢাকা৷ সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা, অর্থাৎ নজরদারির ক্যামেরা ঝোলানো রয়েছে৷
পাসপোর্ট বস্তুত বাজেয়াপ্ত, তবুও আই ওয়ে ওয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তার ভিডিও-বার্তায় বলেছেন, তিনি আসলেও আসতে পারেন, যদিও আপাতত সেটা তার জানা নেই৷ তার আসা না আসাটাকেও শিল্পে পরিণত করেছেন আই ওয়েওয়ে: মিউজিয়াম ভবনের বাইরে একটি সাদাসিধে সাইকেল দাঁড় করানো আছে; সাইকেলের বাস্কেটে রাখা রয়েছে এক তোড়া ফুল৷ এইভাবে চীনে যেখানে তার বাস, সেখানেও নাকি একটি সাইকেলের উপর ফুল রাখা আছে৷ সেই ফুলও নাকি প্রতিদিন বদলে দেওয়া হবে, যতোদিন পর্যন্ত না আই ওয়েওয়ে বার্লিনে তার প্রদর্শনীতে আসতে পারেন৷
আই ওয়েওয়ে জার্মান সরকার ও জনগণের কাছ থেকে চিরকালই সমর্থন ও সাহায্য পেয়ে এসেছেন৷ ২০১১ সালে তাকে বার্লিনের কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘চেয়ার', অর্থাৎ অধ্যাপকের মর্যাদা প্রদান করা হয়৷ শুধু বার্লিনের প্রদর্শনীর জন্য একাধিক নতুন ইনস্টলেশন সৃষ্টি করেছেন আই ওয়েওয়ে৷ সবচেয়ে চমকপ্রদ ইনস্টলেশনটি রাখা রয়েছে মিউজিয়ামের অ্যাট্রিয়ামে: মেঝে জুড়ে ছয় হাজার কাঠের টুল, যেগুলো উত্তর চীনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে৷ সব ক'টি একই চেহারার কিন্তু বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন ধরনের নকশা করা – অর্থাৎ প্রতিটিই একক ও সবিশেষ৷ এগুলি কারখানায় তৈরি প্লাস্টিকের টুলের মতো এক নয়, এগুলি হল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী – যা কিনা আই ওয়েওয়ে-র চূড়ান্ত বার্তা৷
আইওয়েওয়ে-র মধ্যে যেন কোনো ‘দাদাইস্ট' লুকিয়ে রয়েছে: নয়তো চীনের হান রাজবংশের আমলের, অর্থাৎ প্রায় দু'হাজার বছরের পুরনো ফুলদানিগুলোতে হালফ্যাশনের মার্সিডিজ কিংবা বিএমডাবলিউ গাড়ির মেটালিক পেন্ট লাগানোর কথা ভাবতে পারতেন না আর কোনো শিল্পী ৷ এগুলো কিন্তু চীনে নয়া বড়লোকদের গাড়ি কেনার ধুমের প্রতিও ইঙ্গিত, যেমন একটি পাথরের গ্যাস-মুখোশ বেইজিং-এর বায়ুদূষণের প্রতি ইঙ্গিত করছে৷ ২০০৮ সালের অলিম্পিকের জন্য বেইজিং-এর ‘পাখির বাসা' স্টেডিয়ামের নকশা তৈরিতে যেমন আই ওয়েওয়ে-র হাত ছিল, তেমনই লন্ডনের ‘‘সূর্যমুখীর বীজ'' প্রদর্শনীর জন্য দশ কোটি হাতে-রং-করা চীনেমাটির বীজ প্রদর্শন করেছিলেন আইওয়ে ওয়ে৷
শিল্পীকে আটকে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তার শিল্পকে নয়৷ বার্লিনের প্রদর্শনী সেই কথাই আবার নতুন করে প্রমাণ করল। সূত্র: ডয়চে ভেলে
[b]ঢাকা, ০৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]
চীনের প্রতিবাদী শিল্পী আই ওয়েওয়ে
চীনে ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর সরকারি নিপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিশিষ্টতম প্রতিভূ সম্ভবত আই ওয়েওয়ে, বিশেষত করে জার্মানির মানুষদের কাছে৷ শিল্পীর অনুপস্থিতিতেই বার্লিনে চলেছে তার সর্বাধুনিক শিল্পকলার প্রদর্শনী৷
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান চীনের
অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ এবং স্থাপিত বসতি প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
ঋণ নয়, চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে সার্বভৌম ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একসঙ্গে ১১৬ ডুবো ড্রোন চালিয়ে চীনের বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে কোনো ধরনের সরাসরি মানব নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান পরিচালনা করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল।
বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা ফেরাতে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: ইয়াও ওয়েন
বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
















