স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা এএফইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
বার্সেলোনায় জাভি হার্নান্দেস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও কার্লেস পুয়োলের মতো সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছেন মেসি। তাঁদের সঙ্গে একের পর এক শিরোপা জিতে ক্লাবটির ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় গড়েছেন তিনি। তবে মেসির কাছে সেই সময়ের বিশেষত্ব শুধু ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণা করে মেসি বলেন, তাঁরা সবকিছু জেতার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। মাঠে নেমে জেতা ও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পাওয়া যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি অনুশীলনের প্রতিদিনের সময়গুলোও তাঁরা দারুণ উপভোগ করতেন।
তাঁর ভাষায়, সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।
বার্সেলোনা ছেড়ে দুই মৌসুম ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) খেলেছেন মেসি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তবে ঠিকানা বদলালেও বার্সেলোনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি।
মেসি বলেন, বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু ফুটবলকেন্দ্রিক নয়। শহর ও ক্লাবটির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তাঁর তিন সন্তানের জন্মও এই শহরে, যা বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধনকে আরও গভীর করেছে।
ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছিল মেসিকে। অবশেষে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পূরণ হয় তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাকে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে করা গোলগুলোকে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল হিসেবে দেখেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় করা গোলগুলোর পাশেই থাকবে বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলগুলো—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির স্মৃতিও তুলে ধরেছেন এই ফুটবল তারকা। গত আগস্টে বাবাকে হারানোর শোকের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার পাওয়ার খবরে তাঁর বাবা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। ব্যস্ত সূচি থাকলেও ছেলেকে ওবিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কার গ্রহণের জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি।
মেসির মতে, মাঠের অর্জনের বাইরের এই সম্মাননা তাঁর বাবা দেখে যেতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বাবার দেওয়া একটি উপদেশ এখনো মনে রেখেছেন মেসি—ফল যা-ই হোক, চেষ্টা থামানো যাবে না। সফলতা কিংবা ব্যর্থতায় আটকে না থেকে আবার চেষ্টা করার মানসিকতাই তাঁর পথচলার অন্যতম ভিত্তি।
বাবার সেই শিক্ষার কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, বল পায়ে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলতেন তাঁর বাবা। সফল হওয়া বা ব্যর্থ হওয়া নয়, বরং বারবার চেষ্টা করে যাওয়াটাই ছিল সেই উপদেশের মূল কথা।
এস
















